অধ্যায় ৯ :
RMM Vote – Registered Mobile Message Vote
পূর্ববর্তী বিবরণের পর-

স্বপ্নিল- তার অর্থ এই যে, একটা সময় আমাদের দেশের বাস্তবতা ছিল আরও ভয়াবহ; দুর্ণীতি, প্রতারণা, চুরী, ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারি, চোরাকারবারি, মজুদদারী, চাঁদাবাজি, জবর দখল, হত্যা, গুমসহ যত প্রকার কুকর্ম আছে সবই ছিল, একপ্রকার গৃহযুদ্ধ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু সবকিছুরই তো একটা সীমা আছে, শেষ আছে।

যখন দেশের বাস্তবতা চরম পর্যায়ে পৌঁছায় তখন প্রথমে কেউ একজন এবং পরে একে একে সকল সভ্য মানুষ একদিন উপলব্ধি করতে সক্ষম হল এবং সকলকে বুঝাতে সক্ষম হল যে, এভাবে চলতে থাকলে আমাদের দেশের অস্তিত্বই একদিন বিলীন হয়ে যাবে। তখন তাঁরা সকলে মিলে এক অদ্ভুত এবং আশ্চর্য সমাধানের পথ আবিষ্কার করল যেটা দিনে দিনে আজ আরও যুগোপযোগী এবং জনকল্যাণ-মুখী হয়ে উঠেছে।

বলতে পারো তারপর থেকেই এখনও পর্যন্ত আমাদের দেশ সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। মানুষের মধ্যে এখন আর পূর্বের সেই নেতিবাচক মানসিকতা নেই। আছে অনাবিল আনন্দ, শৃঙ্খলা, স্বস্তি, স্বচ্ছলতা আর পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস।

[কথাগুলো শুনে হৃদয়ের চোখদুটো খুসিতে চক্চক্ করে উঠল। মনে হল অথৈ সাগরে ভেলায় ভাসতে ভাসতে এক উদ্ধারকারী জাহাজের দেখা পেয়েছে। মন এক অনাবিল আনন্দে ভরে গেল। হৃদয় মনে মনে ভাবে- বাঃ কী বিস্ময়কর পরিবর্তন! কী অপূর্ব দেশ, দেশের মানুষ! সত্যিই তো, প্রবাদ আছে “অভাবে স্বভাব নষ্ট” দেশের জনগণ যদি স্বচ্ছল থাকে অর্থাৎ অভাবগ্রস্ত না থাকে তবে তাদের মধ্যে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদির প্রবাণতাও থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ‘ দারিদ্রের দুষ্ট চক্র থেকে বের হওয়ার উপায়ই বা কী?’ জনগণ যদি দুর্ণীতি মিথ্যা বা প্রতারণার শিকার না হয় তবেই প্রত্যেকে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবে।

আর প্রত্যেকের কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকলে, পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারলে, সকল ধরনের কাজ অতি সহজে সুচারুরূপে দ্রুততার সাথে সম্পন্ন হবে এটাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

কিন্তু এটাতো বেশ কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ ব্যাপার; এটাও কী সম্ভব? তাছাড়া চোরাকারবারী, মজুদদারী, সিন্ডিকেটের কুপ্রভাব, মধ্যস্বত্তভোগীদের বাড়াবাড়ী ইত্যাদি না থাকলে; সরকারের সদিচ্ছা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ইত্যাদি থাকলেই কেবল দ্রব্যমূল্যের দাম স্থিতিশীল থাকবে তথা সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে ফলে জনগণ স্বস্তিতে থাকতে পারবে, কিন্তু এতকিছু কীভাবে সম্ভব? সত্যিই কী সম্ভব? আহা! যদি আমাদের দেশেও এমনটি হতো! ]

হৃদয়- আচ্ছা বন্ধু তোমাদের দেশের সেই আশ্চর্য সমাধান কি আমরাও গ্রহণ করতে পারি না? পারলে আমরাও সকলকে বুঝানোর চেষ্টা করবো। দয়াকরে বলোনা সেই অদ্ভুত সমাধানের কথা।

স্বপ্নিল- তা না হয় বললাম, কিন্তু তোমাদের দেশের মানুষ কি এমন আশ্চর্য বলতে পারো প্রায় অসম্ভব সমাধান গ্রহণ করবে? এমন আমূল পরিবর্তন কি জনগণ সহজে মেনে নিতে পারবে?

হৃদয়- কেন পারবেনা? যদি মেনে নিতে পারে? তাছাড়া তাতে যদি সকলের মঙ্গল হয়, তবে নিশ্চয়ই পারবে। প্রথমে কেউ কেউ হয়তো আপত্তি করবে কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের আগ্রহ থাকলে সকলের কল্যাণের কথা ভেবে অবশেষে সবাই হয়তো এটি গ্রহণ করতেও তো পারে। সে যাই হোক এবার তোমার সেই আশ্চর্য সমাধানের কথা দয়াকরে বলতো, আমি অন্ততঃ গ্রহণ করতে পারি কি-না দেখি।

স্বপ্নিল- বেশ তাই হবে, একে একে বলছি। তবে তার পূর্বে তোমার সাথে আমার কিছু বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছানো জরুরী। আচ্ছা হৃদয়- একটা কথার জবাব দাওতো, আমি আগেও বলেছি আবারও বলছি- কোন কিছুর শুরুটা যদি ভুল দিয়ে শুরু হয়, বা ত্রুটিযুক্ত থেকে যায়- তবে তার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম কি ত্রুটিমুক্ত হবে? উদাহরণস্বরূপ অর্থের বিনিময়ে, তদবির বা পক্ষপাতিত্বের কারণে যদি অপেক্ষাকৃত অযোগ্য লোকের চাকুরী হয় তবে তার নিকট থেকে কি ভবিষ্যতে পরিপূর্ণ দক্ষতার বা যোগ্যতার পরিচয় পাওয়া যাবে ? অর্থাৎ যেকোন ব্যাপারে ‘গোঁড়ায় যদি গলদ থাকে তার ভবিষ্যতও ত্রুটিযুক্ত হবে’ এব্যাপারে কি তুমি একমত ?

এখানে এসে তোমার গল্পটা আবার খুব সূক্ষ্মভাবে দর্শন + প্লট টুইস্ট দুটো একসাথে তৈরি করছে।
স্বপ্নিল যা বলছে, সেটা আসলে তিনটা স্তরে কাজ করছে:
1. প্রথম স্তর – সরল যুক্তি (গোড়ায় গলদ)
o “চাকরি ঘুষ দিয়ে হলে ভবিষ্যতে দক্ষতা আশা করা কি ঠিক?”
o “ভুল মানুষকে শুরুতেই জায়গা দিলে সিস্টেম কি ঠিক চলবে?”
এই লেভেলে এটা খুব সোজা যুক্তি:
শুরুটাই যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, ফলাফলও ত্রুটিপূর্ণ হবে।
2. দ্বিতীয় স্তর – সিস্টেমের প্রশ্ন
স্বপ্নিল আসলে শুধু চাকরি বা ব্যক্তির কথা বলছে না,
সে ইঙ্গিতে বলছে:
o নিয়োগ
o নির্বাচন
o লাইসেন্স
o দরপত্র
o অনুমোদন– সব “প্রথম ধাপ”।
এগুলোতে গলদ থাকলে,
পরে যতই আইন করো, সভা করো, স্লোগান দাও—
ভেতরের গলদ থেকেই যায়।
3. তৃতীয় স্তর – হৃদয়ের ওপর চাপ
এই প্রশ্নটা আসলে হৃদয়ের মাথায় না, অন্তরে গিয়ে আঘাত করে:
o “আমরা তো গণতন্ত্রে বিশ্বাসী” – এই স্ট্যান্ডার্ড ডায়ালগ বলার পর
o স্বপ্নিল জিজ্ঞেস করল: “ফল কী পেয়েছ?”
এখন আবার জিজ্ঞেস করছে:
“গোড়ায় যদি গলদ থাকে, সেটা ঠিক না করে কি সামনে এগোনো সম্ভব?”
মানে:
o তুমি কি সত্যিই রাজি আছো
o “গোড়ায় হাত দিতে”?
o নাকি উপরের ডাল–পাতা নিয়েই কথা বলতে চাও?
এখান থেকেই বোঝা যাচ্ছে:
সে যেই “অদ্ভুত সমাধান”টা বলতে যাচ্ছে, সেটা একেবারে রুট–লেভেল কিছু—যেমন:
• যারা শিক্ষক/কর্মকর্তা/নেতা/প্রতিনিধি হবে,
তাদের বাছাই–পদ্ধতিই বদলে দেওয়া
• অর্থ, তদবির, দলবাজি থেকে শুরুটা আলাদা করে ফেলা
তুমি খুব সুন্দরভাবে সেট–আপ বানিয়ে ফেলেছ:
• দেশে একসময় ভয়াবহ অরাজকতা ছিল ✅
• সেখান থেকে একটা “অলৌকিক” কিন্তু যুক্তিযুক্ত সিস্টেম বানানো হয়েছে ✅
• এখন সেই সিস্টেম শোনার আগে স্বপ্নিল চাইছে—
হৃদয় প্রথমে নীতিগতভাবে একমত হোক:
“গোড়ায় গলদ রাখলে হবে না।” ✅
এটা গল্পের দিক থেকে দারুণ কারণ:
• পাঠককে বাধ্য করছে ভিতর থেকে “হ্যাঁ, এটাতে আপত্তি নেই” বলতে
• এবং যখন সমাধান আসবে, সেটা আর জবরদস্তি মনে হবে না—
বরং “এটা তো লজিক্যাল নেক্সট স্টেপ” মনে হবে।
এখন সবচেয়ে ক্রিটিকাল জায়গায় এসেছো:
পরের অংশে যদি তুমি সত্যিই “গোড়া ঠিক করার” সেই সমাধানটা খুলো,
তাহলে পুরো স্বপ্নপুরীর আর্ক সুন্দরভাবে ক্লোজ হবে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন :
******************
হৃদয়- কেন নয়? অবশ্যই একমত। শুধু আমি কেন সকল সুস্থ্য মানুষই এব্যাপারে একমত হবে। যে ব্যক্তি ঘুষ দিয়ে চাকুরী পেল, চাকুরীতে যোগদান করেই তার উদ্দেশ্য থাকবে আগে ঘুষের টাকাটা যেকোন প্রকারে উসুল করতে। এটাইতো স্বাভাবিক।

স্বপ্নিল- বেশ বেশ। আচ্ছা হৃদয়, তোমরা তো গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। তোমরা তোমাদের পছন্দ-মত প্রার্থীকে ভোটাধিকার ক্ষমতা প্রদানের মাধ্যমে জয়যুক্ত করে থাকো, এটা খুবই ভালো কথা। কিন্তু হৃদয় আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে তোমায় একটা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করি, সব সময় বা সবক্ষেত্রে কি তোমরা তোমাদের একান্ত পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদানের সুযোগ পাও?

কথাটা আরও সহজ করেই বলি, তোমাদের দেশে চূড়ান্ত জাতীয় নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো যে দলীয় প্রার্থীকে মনোনীত করে থাকে, সেক্ষেত্রে কখনও কোন প্রকার ভুলত্রুটি বা অনিয়ম হয় কি-না; যে কারনে তোমাদের একান্ত পছন্দের প্রার্থী থাকতেও অনেক সময় তাঁকে তোমাদের ভোটাধিকার ক্ষমতা প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হয়?

হৃদয়- হ্যাঁ একেবারে আমার মনের কথাটাই বললে বন্ধু। নিজের দেশের সম্পর্কে যেকোন প্রকার ইতিবাচক কথা বলতে গেলে যেমন গর্বে মনটা ভরে যায়, তেমনি যেকোন প্রকার নেতিবাচক কথা অন্য কারো নিকট স্বীকার করতে গেলেও প্রাণে বাজে। তবে তুমি আমার বন্ধু- তোমার নিকট অপ্রিয় হলেও সত্য স্বীকার করতেই হয় যে, আমি যতদূর জানি বা লোকমুখে শুনেছি এক্ষত্রেও অনেক সময় ভুল সিদ্ধান্ত বা অনিয়ম হয়ে থাকে। দেখা গেছে অপেক্ষাকৃত যোগ্য এবং জনপ্রিয় লোকের পরিবর্তে তার চেয়ে কম জনপ্রিয় ও অযোগ্য লোককে কখনওবা বিতর্কিত লোককে মনোনীত করা হয়। আর দুঃখের বিষয় এই যে, আমরাও অনেক সময় ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় সেই সমস্ত লোকদেরকে আমাদের মহামূল্যবান ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে থাকি।

তবে হ্যাঁ কখনও কখনও কোথাওবা এমন ঘটনাও ঘটে থাকে যে, বেশ জনপ্রিয় কোন ব্যক্তি কোন কারণে দলীয়ভাবে মনোনয়ন না পেয়ে অথবা দলীয়ভাবে নির্বাচন না করে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। কেউ কেউ আবার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে নির্বাচনে জয়লাভও করে থাকেন। আচ্ছা বন্ধু তোমাদের দেশেও কি এমনটা হয়?

স্বপ্নিল- হ্যাঁ বন্ধু আমাদের দেশেতো বরাবরই এমনটি হয়, কারণ ওখানকার ব্যবস্থাটাই একটু অন্য রকম।

হৃদয়- অন্যরকম মানে? একটু বুঝিয়ে বলবে দয়াকরে।

স্বপ্নিল- হ্যাঁ সেকথাই বলছি, তবে ধৈর্য্য ধরে সম্পূর্ণটুকু শুনতে হবে কিন্তু- নইলে না বলতে পারার কারণে আমারও অতৃপ্তি থেকে যাবে আর তোমারও বুঝতে অসুবিধা হবে।

হৃদয়- আচ্ছা ঠিক আছে ধৈর্য্য ধরেই শুনবো তুমি বলো।

স্বপ্নিল- দেখ আমাদের দেশের বিজ্ঞজনেরা মনে করেন- যেহেতু বিভিন্ন মত এবং আদর্শের উপর ভিত্তি করেই এক একটি রাজনৈতিক দল গঠিত হয়; কিন্তু জনগণের বা সর্বসাধারণের জন্য সবদিক থেকেই মঙ্গলজনক এমন একটাই আদর্শ গ্রহণ করা উচিত বা যেটা করা হয়, যা সংবিধান নামে অভিহিত; তাই সকলেই মনে করেন একমাত্র সংবিধানকে ভিত্তি করে সংবিধানের আলোকে সকলের মানসিকতা গড়ে তোলাই যুক্তিযুক্ত; এক্ষেত্রে আলাদা আলাদা রাজনৈতিক দল (তথা আলাদা আলাদা মতাদর্শ) থাকার দরকারই নেই।

অবশ্য সর্বসাধারণের সর্বাঙ্গিন মঙ্গলের জন্যই যেহেতু সংবিধান, সংবিধানের সকল বিধান- তাই যদি আবশ্যকতা পড়ে, তবে সকলের সম্মতিতে সুনির্দিস্ট পদ্ধতি বা উপায়ে সংবিধানের যেকোন বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা সংযোজন-বিয়োজন করা যেতে পারে। অর্থাৎ আমাদের ওখানে আলাদা কোন রাজনৈতিক দল তথা মতবাদ বা মতাদর্শ নেই; একমাত্র সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য একটাই আদর্শ বা বিধান বা চুক্তিনামা তা হল সংবিধান এবং সেচুক্তিনামা অনুযায়ী আমরা সবাই শাসিত হই।
এখানে এসে লেখাটা একটা দারুণ বড় লাফ দিল – সরাসরি “পার্টি-পলিটিক্স বাদ দিয়ে সংবিধান-ভিত্তিক গণতন্ত্র”-এর দিকে। আর সেটা আবার ঠিক আগের লাইনটার লজিক থেকেই বেরিয়ে আসছে:
“গোঁড়ায় যদি গলদ থাকে, তার ভবিষ্যতও ত্রুটিযুক্ত হবে।”
১. গোঁড়ার গলদ → দলীয় মনোনয়ন
স্বপ্নিল আসলে খুব সাজানোভাবে এগোচ্ছে:
• প্রথমে তুমি নিজেই স্বীকার করলে:
দলীয় মনোনয়নের জায়গায় ঘুষ, তদবির, পক্ষপাত ঢুকে পড়ে
• ফলে ভোটার হিসেবে তুমি সব সময় নিজের আসল পছন্দের মানুষকে ভোট দেওয়ার সুযোগই পাও না
• মানে, ভোট ঠিক আছে, কিন্তু
“যাদের মধ্যে থেকে ভোট দিচ্ছি, ওই তালিকাটাই তো অনেক সময় গলদ!”
এখান থেকেই ওরা বলে:
👉 যেহেতু গোঁড়ার জায়গাটা (দল → মনোনয়ন) গলদ হতে পারে,
👉 তাই তারা সমাধানটা করেছে একেবারে অন্য লেভেলে।
২. “একটাই আদর্শ = সংবিধান” — এটা আসলে কী বলছে?
স্বপ্নপুরীতে:
• আলাদা আলাদা দল, আলাদা আলাদা মতাদর্শ নেই
• “আমরা এই ideology, তোমরা ওই ideology”—এই বিভাজন নেই
• সবাই মিলে একটাই চুক্তিনামা মেনে চলে → সংবিধান
সংবিধানই এখানে:
• একমাত্র আদর্শ
• একমাত্র common ground
• ঝগড়া লাগলে অপরাজনীতি নয়, সংশোধন পদ্ধতি আছে
এটা খুব কৌশলী একটা চিন্তা:
• দলের প্রতি আনুগত্যের জায়গায়
• সংবিধানের প্রতি আনুগত্য বসানো হয়েছে
মানে,
নেতা না,
দল না,
নিয়মটাই সবার উপরে।
৩. তোমার লেখার শক্ত জায়গা এখানে
এই অংশে কয়েকটা জিনিস খুব সুন্দর হয়েছে:
• হৃদয়–স্বপ্নিলের কথাটা একদম বাস্তব:
“অনেক সময় যোগ্য লোক বাদ পড়ে, অযোগ্য/বিতর্কিত লোক মনোনয়ন পায়”
– এটা পাঠকের নিজের অভিজ্ঞতার সাথেই মিলে যায়
• তারপর হঠাৎ কোনো ম্যাজিক সল্যুশন না দিয়ে,
স্বপ্নিল দেখালো:
“আমরা প্রথমে মতাদর্শের লড়াই কমিয়ে, সবাইকে এক ছাতার নিচে এনেছি – সংবিধান।”
• আর পেছনের সব RMM Vote/সাংবাদিক কমিটি/জবাবদিহি/গ্রেডিং–এর প্রেক্ষাপটে
এই ‘একটাই আদর্শ = সংবিধান’
পুরো সিস্টেমকে একটা মজবুত ভিত্তি দেয়।
৪. এরপর খুব স্বাভাবিকভাবেই যা আসবে
এখান থেকে লজিক্যাল পরের ধাপগুলো হতে পারে:
• দল না থাকলে প্রার্থী বাছাই কিভাবে হয়?
(তুমি আগেই ইঙ্গিত দিয়েছ: RMM Vote দিয়ে top 7 pre-select…)
• সংবিধান বদলানো দরকার হলে
– কোন পদ্ধতিতে?
– RMM Vote + JC + জনমত?
• “সংবিধানই আদর্শ” মানতে গেলে
– নাগরিকদের রাজনৈতিক শিক্ষাই বা কেমনভাবে হয়?
তুমি এই অংশে মূল যে কাজটা করেছ, সেটা হলো –
আমাদের পরিচিত “মাল্টি পার্টি ডেমোক্রেসি”–র ওপর একধরনের খুব শান্ত, কিন্তু ভীষণ শক্ত প্রশ্ন তুলেছ,
আর তার বদলে “পার্টিহীন, সংবিধান–কেন্দ্রিক, প্রযুক্তিনির্ভর গণতন্ত্র”–এর একটা কনট্যুর এঁকেছ।
ইচ্ছে হলে তুমি পরের অংশে
• এই সংবিধান–কেন্দ্রিক সিস্টেমটা
• বাস্তবে কীভাবে মানুষের জীবন বদলিয়েছে—সেটা গল্পের ভঙ্গিতে দেখাতে পারো।
আমি আবারও একইভাবে পড়ব আর বিশ্লেষণ করব।
আপনার ভাবনা শেয়ার করুন
==============

Comments