অধ্যায় ৮ :
সাংবাদিক কমিটি ও জবাবদিহির নতুন সংস্কৃতি
পূর্ববর্তী বিবরণের পর- আচ্ছা সবই মোটামুটি বুঝলাম কিন্তু সাংবাদিক কমিটি আর জবাবদিহির কথা কি যেন বললে, এই সাংবাদিক কমিটি বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে?
আর জবাবদিহি-ই বা কিভাবে চাওয়া হয়? কে জবাবদিহি করে? কার কাছে জবাবদিহি করতে হয়?
স্বপ্নিল-- হ্যাঁ বন্ধু তুমি খুবই প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করলে। আমি একে একে বিস্তারিতভাবে তোমার প্রশ্নের উত্তরগুলো দিচ্ছি।
মন দিয়ে শোন। আমাদের দেশে সাংবাদিক কমিটি নামে নির্দিষ্ট কিছু বিশেষ কমিটি আছে।
নির্দিষ্ট বলতে বুঝানো হয়েছে নির্বাচনী আসন বা এলাকার সমান সংখ্যক অর্থাৎ যতগুলো নির্বাচনী আসন ততগুলো কমিটি আছে।
এই কমিটি গঠিত হয়- তালিকাভুক্ত রেডিও থেকে=১জন, টিভি থেকে=২জন, পত্রিকা থেকে=২জন, আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারিত এবং প্রকাশিত দুটি মাধ্যমের =২জন সর্বমোট (১+২+২+২)=৭জন কর্তব্যরত সিনিয়র/বয়োজ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে।
তবে কেন্দ্রীয় আসন হিসাবে চিহ্নিত এলাকার অধীন কমিটিকে জাতীয় সাংবাদিক কমিটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়।
এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্তব্যরত সিনিঃ সাংবাদিক বৃন্দই হন উক্ত এলাকার কমিটির সদস্য এবং উক্ত সদস্যদের মধ্যে বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিই হন উক্ত কমিটির সভাপতি। বুঝেছ কোন অসুবিধা?
হৃদয়-- না, অসুবিধা নেই বুঝলাম কিন্তু এটা একটু বুঝিয়ে দাও তো- কোন কোন টিভি, রেডিও বা পত্রিকার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠিত হবে তা নির্ধারন করা হয় কীভাবে?
স্বপ্নিল-- বলছি মন দিয়ে শোন। এক্ষেত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পর্যায়ক্রমে নির্ধারণ করে অনলাইনে জানিয়ে দেয়া হয় যে, পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য সাংবাদিক কমিটি গঠিত হল কোন কোন টিভি, রেডিও বা পত্রিকার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে।
অর্থাৎ একটি নির্দেশে একই সাথে সারাদেশের কমিটিগুলো গঠিত হয়ে যায় এবং তাঁরা পরবর্তী দুই সপ্তাহের জন্য তাঁদের স্ব স্ব এলাকায় দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
হৃদয়-- আচ্ছা বুঝলাম, তবে জবাবদিহির ব্যাপারটা এবার একটু বুঝাওতো।
জবাবদিহি শব্দটা শুনলেই মনে হয় কেউ হয়তো কোন অন্যায় করেছে, ভুল-ত্রুটি করেছে যেজন্য তাকে কারো নিকট সে অন্যায় বা অপরাধের কৈফিয়ত দিতে হবে।
তাকে তার অপকর্মের জবাব দিতে হবে। সত্যি বলতে কী এই শব্দটার অনেক গুরুত্ব! কিন্তু আজকাল আমাদের দেশে এর সার্বজনীন নিরপেক্ষ ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ, কেউ যেন কারো নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য না বা জবাবদিহি করতে চায় না।
কোথাও কোন অন্যায় বা অপরাধ সংগঠিত হলেও হয়তোবা যথাযথ জবাবদিহি না করেই সে বা তারা পার পেয়ে যায়। আচ্ছা তোমাদের দেশে এই জবাবদিহির পদ্ধতিটা কিরূপ?
কীভাবে তা সম্পন্ন হয়? সে সম্পর্কে এবার একটু বলতো।
স্বপ্নিল-- হ্যাঁ বলছি শোন, একে একে সবই বলবো একটু ধৈর্য্য ধরে শুনতে হবে।
অল্পতে অধৈর্য্য হলে কিন্তু চলবে না। এক্ষেত্রে বেশ কিছু পদ্ধতি তোমাদের দেশের মতই, তবে আমাদের দেশে ঠিক যেভাবে প্রচলিত আছে সেটিই বলছি।
প্রথমতঃ যে কোন ছোট খাটো অন্যায় বা বিবাদের জবাবদিহিতা বা মীমাংসা করে থাকেন সংশ্লিষ্ট পাড়া / মহল্লা / ওয়ার্ড বা গ্রামের মাতব্বরগণই।
বেশিরভাগ ঝগড়া বিবাদের মিমাংশা আমাদের দেশে এই সমস্ত মুরুব্বী বা মাতব্বরগণই সমাধান করে দেন।
অর্থাৎ প্রথমে জবাবদিহি করতে হয় সংশ্লিষ্ট এই সমস্ত মুরুব্বী বা মাতব্বরগণের সম্মুখে । কোন কারনে তারা যদি অপারগতা প্রকাশ করেন বা যদি প্রয়োজন পড়ে তবে-
দ্বিতীয়তঃ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদনের মাধ্যমে ...
এই অংশে এসে লেখাটা প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র + সামাজিক ন্যায়বিচার—এই দুইয়ের সংযোগস্থলে দাঁড়িয়েছে। খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মোড় এটা।
এই অংশের বিশ্লেষণ
১. হৃদয়ের প্রশ্ন: এখন আর কৌতূহল নয়, বোঝার তাগিদ
হৃদয় এখন আর “ভালো লাগছে” বলেই থেমে নেই। সে জানতে চায়—
• সাংবাদিক কমিটি আসলে কারা
• জবাবদিহি কীভাবে কাজ করে
• কার কাছে, কে জবাব দেয়
এটা চরিত্রগত বড় অগ্রগতি। হৃদয় এখন সচেতন নাগরিকের অবস্থানে।
২. সাংবাদিক কমিটির গঠন: ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলী
৭ সদস্যের কাঠামোটা খুব চিন্তাশীল:
• রেডিও (১)
• টিভি (২)
• পত্রিকা (২)
• আন্তর্জাতিক মাধ্যম (২)
এতে করে:
• দেশীয় দৃষ্টিভঙ্গি থাকে
• আন্তর্জাতিক মান ও চাপও থাকে
• একক মাধ্যমের আধিপত্য হয় না
আর নির্বাচনী আসনভিত্তিক কমিটি—এটা জবাবদিহিকে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।
৩. দুই সপ্তাহের রোটেশন: ক্ষমতা জমাট বাঁধতে দেয় না
রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে সময়ভিত্তিক (২ সপ্তাহ) কমিটি নির্ধারণ—
• দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই
• স্থানীয় গোষ্ঠীর সাথে আঁতাত কঠিন
• সাংবাদিকরাও “অস্থায়ী দায়িত্ব” হিসেবে কাজ করেন
এটা লেখার খুব পরিণত দিক।
৪. হৃদয়ের জবাবদিহি ভাবনা: বাস্তব দেশের আয়না
হৃদয় যেভাবে বলে—
“আজকাল আমাদের দেশে এর সার্বজনীন নিরপেক্ষ ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ”
এটা অভিযোগ নয়, দুঃখ।
এই লাইনটাই দেখায় কেন স্বপ্নপুরীর দরকার।
৫. স্বপ্নিলের জবাবদিহি মডেল: নিচ থেকে উপরে
স্বপ্নিল যেভাবে শুরু করেছে—
• প্রথমে পাড়া/মহল্লা/গ্রাম
• মাতব্বর/মুরুব্বি
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ:
• সব সমস্যার জন্য রাষ্ট্র নয়
• সমাজ নিজেই প্রথম স্তরের আদালত
এখানে restorative justice-এর ধারণা কাজ করছে—শাস্তি নয়, মীমাংসা।
৬. “দ্বিতীয়তঃ ইউনিয়ন পরিষদ…” — বড় কাঠামোর ইঙ্গিত
এইখানে লেখাটা থেমেছে, কিন্তু দিক স্পষ্ট:
👉 ধাপে ধাপে উপরের দিকে যাবে—
• ইউনিয়ন পরিষদ
• উপজেলা
• জেলা
• হয়তো শেষ পর্যন্ত আদালত
অর্থাৎ ক্রমবর্ধমান জবাবদিহি, হঠাৎ দমন নয়।
সামগ্রিকভাবে
এই অংশে স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী দেখাচ্ছে—
• শক্ত রাষ্ট্র মানে সবকিছু কেন্দ্রীয় নয়
• শক্ত সমাজ মানে আইনহীন নয়
• জবাবদিহি মানে শাস্তি নয়, দায়িত্ববোধ
এই জায়গাটা লেখার নৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করেছে।
এই অংশের বিশ্লেষণ
১. হৃদয়ের প্রশ্ন: এখন আর কৌতূহল নয়, বোঝার তাগিদ
হৃদয় এখন আর “ভালো লাগছে” বলেই থেমে নেই। সে জানতে চায়—
• সাংবাদিক কমিটি আসলে কারা
• জবাবদিহি কীভাবে কাজ করে
• কার কাছে, কে জবাব দেয়
এটা চরিত্রগত বড় অগ্রগতি। হৃদয় এখন সচেতন নাগরিকের অবস্থানে।
২. সাংবাদিক কমিটির গঠন: ভারসাম্যপূর্ণ ও কৌশলী
৭ সদস্যের কাঠামোটা খুব চিন্তাশীল:
• রেডিও (১)
• টিভি (২)
• পত্রিকা (২)
• আন্তর্জাতিক মাধ্যম (২)
এতে করে:
• দেশীয় দৃষ্টিভঙ্গি থাকে
• আন্তর্জাতিক মান ও চাপও থাকে
• একক মাধ্যমের আধিপত্য হয় না
আর নির্বাচনী আসনভিত্তিক কমিটি—এটা জবাবদিহিকে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায়ে নামিয়ে এনেছে।
৩. দুই সপ্তাহের রোটেশন: ক্ষমতা জমাট বাঁধতে দেয় না
রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে সময়ভিত্তিক (২ সপ্তাহ) কমিটি নির্ধারণ—
• দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই
• স্থানীয় গোষ্ঠীর সাথে আঁতাত কঠিন
• সাংবাদিকরাও “অস্থায়ী দায়িত্ব” হিসেবে কাজ করেন
এটা লেখার খুব পরিণত দিক।
৪. হৃদয়ের জবাবদিহি ভাবনা: বাস্তব দেশের আয়না
হৃদয় যেভাবে বলে—
“আজকাল আমাদের দেশে এর সার্বজনীন নিরপেক্ষ ব্যবহার প্রশ্নবিদ্ধ”
এটা অভিযোগ নয়, দুঃখ।
এই লাইনটাই দেখায় কেন স্বপ্নপুরীর দরকার।
৫. স্বপ্নিলের জবাবদিহি মডেল: নিচ থেকে উপরে
স্বপ্নিল যেভাবে শুরু করেছে—
• প্রথমে পাড়া/মহল্লা/গ্রাম
• মাতব্বর/মুরুব্বি
এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ:
• সব সমস্যার জন্য রাষ্ট্র নয়
• সমাজ নিজেই প্রথম স্তরের আদালত
এখানে restorative justice-এর ধারণা কাজ করছে—শাস্তি নয়, মীমাংসা।
৬. “দ্বিতীয়তঃ ইউনিয়ন পরিষদ…” — বড় কাঠামোর ইঙ্গিত
এইখানে লেখাটা থেমেছে, কিন্তু দিক স্পষ্ট:
👉 ধাপে ধাপে উপরের দিকে যাবে—
• ইউনিয়ন পরিষদ
• উপজেলা
• জেলা
• হয়তো শেষ পর্যন্ত আদালত
অর্থাৎ ক্রমবর্ধমান জবাবদিহি, হঠাৎ দমন নয়।
সামগ্রিকভাবে
এই অংশে স্বপ্নিল হৃদয়ের স্বপ্নপুরী দেখাচ্ছে—
• শক্ত রাষ্ট্র মানে সবকিছু কেন্দ্রীয় নয়
• শক্ত সমাজ মানে আইনহীন নয়
• জবাবদিহি মানে শাস্তি নয়, দায়িত্ববোধ
এই জায়গাটা লেখার নৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত করেছে।

Comments